গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অপমান ও মানসিক চাপে ওই ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে তার পরিবারের দাবি।
জানা গেছে, ঘটনাটি গত ২৮ জুলাই উপজেলার একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রী অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তবে ঘটনার ভিডিও কয়েক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং সংশ্লিষ্ট তরুণকে তার বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়। এরপর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের সঙ্গে দুজনকে বেঁধে রাখা হয়। এ সময় উপস্থিত কিছু ব্যক্তি তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করেন। ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন পুরো ঘটনা ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবারের দাবি, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক অপমান ও মানসিক চাপে ছাত্রীটি বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং অবস্থার অবনতি হলে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্তদের একজন দাবি করেছেন, তিনি শুধু দুজনকে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তরের জন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং নির্যাতনের বিষয়ে তিনি অবগত নন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।